—ছবি মুক্ত প্রভাত
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নওদো জোয়াড়ী গ্রাম। এই গ্রামের পথ দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়বে বাড়ির আঙিনায় বা বারান্দায় বসে নিপুণ হাতে সুপারির বাকল ছড়াচ্ছেন নারী-পুরুষেরা। নওদো জোয়াড়ী গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা এখন আবর্তিত হচ্ছে এই সুপারির বাকল ঘিরেই। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ঘরে বসে এই কাজ করে সংসারে আনছেন সচ্ছলতা।
সংসারের চাকা ঘোরাচ্ছে এই কাজ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওদো জোয়াড়ী গ্রামের অন্তত তিন শতাধিক পরিবার এখন সুপারির বাকল ছিলার কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। অল্প পুঁজিতে শুরু করা এই কাজ এখন গ্রামের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। কাজটি সহজ মনে হলেও এতে প্রয়োজন প্রচুর ধৈর্য ও পরিশ্রম।
গ্রামের একজন শ্রমজীবী নারী মোছা. আনেছা বেগম। চার সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার। তিনি জানান, সুপারির বাকল ছিলে মাসে তাঁর গড় আয় প্রায় ৭ হাজার টাকা। আনেছা বলেন, ‘ঘরে বসে এই কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে তিন ছেলে আর এক মেয়ের ভরণপোষণ মেটাতে সুবিধা হয়। আমাগো মতো গরিব মানুষের জন্য এই কামই বড় ভরসা।’
অভাবের সংসারে নারী শক্তির জয়
নওদো জোয়াড়ী গ্রামের এই নীরব অর্থনৈতিক বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন গৃহবধূরা। সংসারের কাজের ফাঁকে তাঁরা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে এই কাজ করেন। এতে একদিকে যেমন তাঁদের বাড়তি আয় হচ্ছে, অন্যদিকে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাঁদের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে শ্রমিকরা জানান, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তাঁরা অনেক সময় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পেশাকে আরও লাভজনক করতে সরকারি বা বেসরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদান জরুরি। আধুনিক উপায়ে সুপারি প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য দেশের অন্যান্য স্থানেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নওদো জোয়াড়ী গ্রামের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, ক্ষুদ্র পরিসরের কাজও গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই গ্রামটি হতে পারে একটি ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের আদর্শ মডেল।