—ছবি সংগৃহিত
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এর বদলে ‘আরও বেশি বিধ্বংসী’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সোমবার (৬ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে আজ সোমবার ভোর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। বিবিসি ফার্সির খবরে বলা হয়েছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেহরানের স্বনামধন্য শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি গ্যাস স্টেশনও ছিল। হামলার পর তেহরানজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, খাতাম আল-আনবিয়া হলো দেশটির সর্বোচ্চ অপারেশনাল সামরিক কমান্ড ইউনিট।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের আক্রমণাত্মক ও প্রতিশোধমূলক অভিযানের পরবর্তী পর্যায়গুলো হবে আরও অনেক বেশি বিধ্বংসী ও ব্যাপক।”
অন্যদিকে, তেহরানে হামলার মধ্যেই ইরানের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে চুক্তি করার জন্য আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় আছে। এরপর “ইরানে সবকিছু গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে।”
এর আগে রোববার দিবাগত রাতে ইসরায়েলের হাইফা শহরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হন। সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে তেহরানে এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়ংকর পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।