—ছবি সংগৃহিত
বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের ডামাডোল আর শুল্ক নীতিতে বড় পরিবর্তনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। চীনকে পেছনে ফেলে এই অবস্থান দখল করলেও গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত চলতি বছরের প্রথম দুই মাসের (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে ২১০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে ভিয়েতনাম শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। এরপরই ১৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ১১৭ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে চীন নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে।
অটেক্সার তথ্য বলছে, গত বছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ ১৫০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। সেই তুলনায় এবার রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তবে চীনের ক্ষেত্রে এই পতনের চিত্র আরও ভয়াবহ। গত বছর এই সময়ে চীন ২৭৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করলেও এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১৭ কোটি ডলারে, যা প্রায় ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা পাল্টা শুল্কের মারপ্যাঁচেই চীনের এই বিশাল ধস। যদিও বাংলাদেশও শুল্ক জটিলতায় পড়েছিল, তবে কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের শুল্ক হার শেষ পর্যন্ত ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করলেও গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাণিজ্য আইনে সব দেশের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের চিত্র ভিন্ন। ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যদিকে ভারতের রপ্তানি আয় পৌনে ২৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ কোটি ডলারে।
পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শুল্ক সুবিধা ও সক্ষমতায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বৈশ্বিক মন্দা ও মার্কিন নীতির অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। তবে চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরে আসায় দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা।