—ছবি মুক্ত প্রভাত
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের দুটি তেল ডিপো দীর্ঘ ৮ বছর ধরে তেলশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। নদীর নাব্য সংকটের কারণে তেলবাহী জাহাজ আসতে না পারায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনায় সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল সংকটের প্রভাবে স্থানীয় এলাকায় ডিজেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে, যা চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে চাষাবাদকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে স্থাপিত এই দুটি ভাসমান ডিপো থেকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাটের ২২ জন ডিলার তেল সংগ্রহ করতেন। কিন্তু ২০১৮ সালের শুরু থেকে ডিপো দুটিতে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এই অঞ্চলের কৃষকদের পার্বতীপুর ডিপো থেকে তেল আনতে হচ্ছে, যাতে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
চিলমারী, উলিপুর, রৌমারীসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৯০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ট্রাক্টর ও সেচ পাম্পের জন্য এই তেল অপরিহার্য। কৃষক সোহেল ও আনোয়ার হোসেন জানান, আগে ডিপো থেকে সরাসরি তেল কেনা যেত। এখন বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনতে হচ্ছে, আবার সংকটের কারণে অনেক সময় তেল পাওয়াও যাচ্ছে না।
ডিপো কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য হ্রাসের কারণে জাহাজ ভিড়তে পারছে না। মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ জাকির হোসেন পাটোয়ারী জানান, নদী খনন না হওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে যমুনা অয়েলের ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, ডিপোটি স্থায়ী করার জন্য দুই বছর আগে একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
উত্তরবঙ্গ ট্যাং-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল হক বলেন, "ডিপোটি পুনরায় চালুর জন্য উপজেলা ও জেলা প্রশাসন থেকে চিঠি দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের ইরি-বোরো, ভুট্টা ও গম চাষ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।"
বর্তমানে সরকারিভাবে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও খুচরা বাজারে কৃষকদের অনেক বেশি দামে তা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। দ্রুত এই ভাসমান ডিপো দুটি সচল বা স্থায়ী করা না হলে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।