—ছবি মুক্ত প্রভাত
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ইসলামপুরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাগ্যবদলের লক্ষ্যে নির্মিত বহুমুখী তাঁতশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কারখানাটি এখন চোর ও লুটেরাদের স্বর্গরাজ্য। দীর্ঘ দুই যুগ আগে বড় আশা নিয়ে কেন্দ্রটি স্থাপিত হলেও বর্তমানে এর অস্তিত্বই হুমকির মুখে। যথাযথ তদারকির অভাবে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র একের পর এক চুরি হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সেলাই মেশিন, কম্পিউটার, গভীর নলকূপের মোটর ও দুটি টিউবওয়েলসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট হয়ে গেছে। রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চক্র এই লুটপাট চালালেও এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি প্রশাসন।
জানা যায়, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সরকারের এই মহতী উদ্যোগটি কয়েক বছর চলার পরই মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনের অবকাঠামোও নষ্ট হতে শুরু করেছে।
গত বছর ২৫ মার্চ গণমাধ্যমে কেন্দ্রটির দুরাবস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটি পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে অর্থ বরাদ্দের সংকটে সেই আশ্বাস আজও আলোর মুখ দেখেনি। স্থানীয়দের মতে, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের এমন করুণ দশা কেবল সরকারি সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার প্রমাণ।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চুরির বিচার নিশ্চিত করে কারখানাটি পুনরায় চালু করা হোক। যাতে এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।