—ছবি মুক্ত প্রভাত
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও পাম্প মালিকদের ‘লুকোচুরি’র কারণে গ্রাহক ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এই সংকট মোকাবিলায় তেল সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি।
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী ও মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারুসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এমনকি বন্দরেও তেলের জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় আছে। অথচ মাঠপর্যায়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে গেলে ‘ডিজেল-অকটেন নাই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহক ও পরিবহন চালকদের তেল সংগ্রহ করতে পুরো দিন ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূর থেকে এসেও গ্রাহকেরা তেল পাচ্ছেন না।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, তেলের বাজারে নজরদারি না থাকায় অসাধু চক্র খোলা ড্রামে বা গুদামে তেল মজুত করছে। ভাউচার থেকে তেল চুরির ঘটনাও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোন পাম্পে কতটুকু তেল মজুত আছে, তা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিপিসির মাধ্যমে নিয়মিত বিজ্ঞাপনের বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে জনগণকে জানানোর আহ্বান জানায় ক্যাব।
ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অসাধু সিন্ডিকেট ও মজুতদারি ঠেকাতে শুধু ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ নয়, বরং সমন্বিত নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং তেল ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনের পরামর্শ দেন তাঁরা। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকিতে গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নজরদারি কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়।