—ছবি সংগৃহিত
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদ অধিবেশনে অনুমোদন পাচ্ছে না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় গঠনসংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ সরাসরি বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে না তুলে আরও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পেশ করা হয়েছিল। সেগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দিতেই এই বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ।
বাতিল হচ্ছে যেসব সংস্কার উদ্যোগ
বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা আনতে করা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ এবং বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ দুটি বাতিল হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশের ফলে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের এই বিশেষ উদ্যোগটি থমকে গেল।
তবে কমিটি এই দুটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করলেও এতে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য।
অপেক্ষায় গুম ও দুদক অধ্যাদেশ
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং দুদকের তদন্ত ক্ষমতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই পাস হচ্ছে না। কমিটি বলেছে, এগুলো আরও শক্তিশালী করে নতুন করে বিল আকারে আনতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—গণভোট অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ এবং মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ।
উল্লেখ্য, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে সেটির কার্যকারিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোপ পায়। ফলে এই ২০টি অধ্যাদেশ আপাতত তামাদি হয়ে যাচ্ছে।
অনুমোদন পাচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থান ও দায়মুক্তি অধ্যাদেশ
কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু বিল আকারে পাসের সুপারিশ করেছে। এই তালিকায় রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের কল্যাণ, অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর এবং জুলাই অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোও পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশোধিত হয়ে ফিরছে পুলিশ কমিশন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন
পুলিশ কমিশন গঠন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনটি সংশোধন করেই মূলত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে সংশোধনীতে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা কমিটির প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
বিশেষ কমিটির এই প্রতিবেদনের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অনেক মৌলিক সংস্কার কার্যক্রম এখন নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।