—ছবি সংগৃহিত
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল ‘ডিপ স্টেট’। এই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম করতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাজা বহাল রাখা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার নীল নকশাও তৈরি করা হয়েছিল। সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এমন বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে প্রথম আলো-র সঙ্গে আলাপকালে আসিফ মাহমুদ তাঁর এই দাবির সপক্ষে আরও কিছু তথ্য দিলেও ‘ডিপ স্টেট’ বলতে ঠিক কাদের বুঝিয়েছেন, তা স্পষ্ট করতে রাজি হননি।
‘ডিপ স্টেট’ ও সেই প্রস্তাব
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির এক সভায় আসিফ মাহমুদ প্রথম এই বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, “সরকারের শুরুর দিকে শক্তিশালী কিছু প্রতিষ্ঠান বা ‘ডিপ স্টেট’ আমাদের প্রস্তাব দিয়েছিল যে, শেখ হাসিনা সরকারের যে মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত আছে, আপনারা সেটা শেষ করেন। আমরা আপনাদের সব ধরনের সহযোগিতা করব।”
আসিফ মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু কঠিন শর্তও ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট শাসনের কিছু কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়া এবং প্রভাবশালী নির্দিষ্ট কিছু পক্ষকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা।
বিএনপির নেতাদের মাইনাস করার ‘রোডম্যাপ’
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার একটি আইনি রোডম্যাপও নাকি উপদেষ্টা পরিষদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আসিফ মাহমুদ বলেন, “তারা (ডিপ স্টেট) আমাদের বুঝিয়েছিল যে বিএনপির নেতাদের সাজা তো আছেই। আদালতের তারিখ পিছিয়ে বা আইনি মারপ্যাঁচে সেই সাজা দীর্ঘায়িত করে তাঁদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা সম্ভব। এমনকি তারেক রহমানের সাজা বহাল রেখে তাঁকে নির্বাচনের অযোগ্য রাখার ছকও তারা কষেছিল।”
কেন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি?
আসিফ মাহমুদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ ছিল বলেই সেই ‘লোভনীয়’ প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তিনি বলেন, “আমরা সমঝোতায় যাইনি বলেই সময়মতো নির্বাচন হয়েছে। এমনকি নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য আমরা নিজেরা আগেভাগেই পদত্যাগ করে সরে এসেছি।”
রহস্যময় ‘ডিপ স্টেট’ কারা?
রাজনৈতিক আলোচনায় ‘ডিপ স্টেট’ বলতে সাধারণত পর্দার আড়াল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী প্রভাবশালী সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র বা গোয়েন্দা সংস্থাকে বোঝানো হয়। আসিফ মাহমুদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি নাম না নিয়ে বলেন, “ডিপ স্টেটে বৈদেশিক শক্তি বা অনেকগুলো পক্ষ ছিল। তাই সুনির্দিষ্ট করে কারও নাম এই মুহূর্তে বলতে চাই না।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ মার্চ সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামও এক সভায় জনৈক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘ডিপ স্টেট’-এর সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের পাঁচ সপ্তাহ পার হওয়ার পর দুই সাবেক উপদেষ্টার মুখে এই রহস্যময় শক্তির কথা বারবার আসায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।-সূত্র প্রথম আলো