—ছবি সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের দামামা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নবগঠিত সরকারের সামনে উদ্ভূত এই বৈশ্বিক সংকটকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সভার মূল আলোচ্য বিষয়
সকাল ৯টা ২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং দাপ্তরিক কাজ শেষে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা, অর্থ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট খাতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠকে মূলত তিনটি প্রধান সংকটের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
১. জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ: যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিকল্প উৎস খোঁজা।
২. বাজার নিয়ন্ত্রণ: জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা।
৩. বিদ্যুৎ উৎপাদন: লোডশেডিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে এলএনজি এবং কয়লা আমদানির জন্য জরুরি তহবিল বরাদ্দ।
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধের এই ভয়াবহ প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে একটি 'ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম' গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
"আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির এই অনিশ্চয়তা আমাদের জন্য বড় পরীক্ষা। তবে সরকার যে কোনো মূল্যে জনগণের কষ্ট লাঘবে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর।" — জাহিদুল ইসলাম রনি, ডেপুটি প্রেস সচিব।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের জন্য এই যুদ্ধ পরিস্থিতি একটি 'অগ্নিপরীক্ষা'। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে। আজকের সভার মাধ্যমে সরকার সেই সম্ভাব্য ধাক্কা সামলানোর প্রাথমিক রোডম্যাপ তৈরি করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন।