—ছবি সংগৃহিত
ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় সপ্তাহের মাথায় এক কঠিন বৈশ্বিক অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়েছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতা নতুন সরকারের জনমুখী কর্মসূচিগুলোর সামনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
মুক্ত প্রভাতের সবশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে আজ বুধবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কাটিয়ে ওঠার রোডম্যাপ চূড়ান্ত হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় উদ্বেগ
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ৯ মার্চ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইএমএফের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। সাধারণ মানুষের ওপর যাতে এর চাপ না পড়ে, সে জন্য আমরা সাশ্রয়ী নীতির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছি।”
পরীক্ষার মুখে জনমুখী কর্মসূচি
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর মাত্র ৩৬ দিনেই বেশ কিছু বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ‘কৃষক কার্ড’ এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মতো কর্মসূচিগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সাড়া ফেলেছে। তবে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে এই বিপুল ব্যয়ের প্রকল্পগুলো কতটা মসৃণভাবে চলবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই যুদ্ধকে ‘অন্যায় ও আগ্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি আমাদের মতো দেশগুলোর ওপর একটি পরোক্ষ যুদ্ধ। তবে আমরা সংকল্পবদ্ধ যে, বৈশ্বিক সংকটের কারণে আমাদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ব্যাহত হতে দেব না।”
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে চার কার্গো এলএনজি আমদানির নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা এবং নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপগুলো কার্যকর হতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই সরকারের জন্য প্রথম মাসটি ছিল আত্মবিশ্বাসের। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন সরকারের সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক বিচক্ষণতার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের বৈঠক থেকেই হয়তো জানা যাবে, এই ‘পরোক্ষ যুদ্ধ’ মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ।