—ছবি মুক্ত প্রভাত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচনী বিরোধের জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। টেঁটা ও বল্লম নিয়ে চালানো এই হামলায় মাওলানা হাবিবুল্লাহ (৩৮) ও আক্তার মিয়া (৫৫) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
যেভাবে সংঘাতের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বিরোধের মূলে রয়েছে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনের একটি ঘটনা। নির্বাচনের দিন গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।
এই ঘটনার জন্য জিয়াউর রহমান প্রতিপক্ষ কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে দায়ী করে আসছিলেন। এছাড়া ইতালিতে লোক পাঠানো সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। নির্বাচনের দিনের ঘটনা সেই পুরোনো বিরোধকে চরম উত্তেজনায় রূপ দেয়।
রণক্ষেত্রে ১০ গ্রাম
রমজান মাস চলাকালীন এই বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষ কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়ায়। স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের নির্দেশে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার একটি সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই রহিম গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কাসেম গোষ্ঠীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষ পাশের অন্তত ১০টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
হতাহতের চিত্র
সংঘর্ষ চলাকালে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাওলানা হাবিবুল্লাহ ও আক্তার মিয়া মারা যান। আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, আহত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, পূর্ব বিরোধের জেরেই এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মুক্ত প্রভাতের সবশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন