পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনে বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন আগামীকাল শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপমহাদেশজুড়ে বিস্তৃত এক বিশাল ‘বৃষ্টিবলয়ের’ প্রভাবে আজ শুক্রবার থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তার রেশ থাকতে পারে ঈদের দিনও।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আজ দিবাগত মধ্যরাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে শনিবার সকালের দিকে কিছুটা বিরতি দিতে পারে। তবে বিকেলের দিকে আবারও বৃষ্টির দাপট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, "আজ শুক্রবারের চেয়ে আগামীকাল বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামীকাল সারা দিনই কমবেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।"
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার পর থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়। সারা দিনে ঢাকায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে মাদারীপুরে, ৩৩ মিলিমিটার। আজ দেশের প্রায় সব বিভাগেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে। রাতের প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাজধানীর আকাশ মেঘলা ছিল।
উপকূলীয় অঞ্চলেও বৃষ্টির ছোঁয়া
আগের পূর্বাভাসে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, আগামীকাল উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতেও বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ঈদের জামাত ও ঘোরাঘুরির পরিকল্পনায় বৃষ্টির প্রস্তুতি রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।
হাজার কিলোমিটারের ‘বৃষ্টিবলয়’
আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আফগানিস্তান থেকে শুরু হয়ে পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বৃষ্টিবলয় বা নিম্নচাপের রেখা তৈরি হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের পশ্চিমা লঘুচাপ উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে চলে যায়, কিন্তু এবার তা সোজা একটি রেখার মতো বিস্তৃত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলছেন, বাংলাদেশের এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে এই সুদীর্ঘ বৃষ্টিবলয়ের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। এর ফলে কালবৈশাখীর চিরাচরিত ঝোড়ো হাওয়ার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
ঈদ প্রস্তুতি ও সতর্কতা: বৃষ্টির কারণে রাজধানীর অনেক নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও যাতায়াতে ভোগান্তি হতে পারে। জাতীয় ঈদগাহসহ বিভিন্ন ঈদগাহে নামাজের প্রস্তুতির পাশাপাশি আবহাওয়া বিবেচনায় ছাতা বা বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।