—ছবি সংগৃহিত
ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের (পিএফএ) দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও দাবির মুখে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) সদস্যপদ স্থগিত না করে কেবল বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গতকাল শুক্রবার ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এই রায় ঘোষণা করে।
ইসরায়েলি ফুটবলের ওপর বড় ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করলেও ফিফা জানিয়েছে, আইএফএ একাধিক ‘গুরুতর ও পদ্ধতিগত’ বৈষম্যের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
জরিমানা ও অভিযোগের ধরন
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে। ফিফার মতে, ইসরায়েলি ফুটবলে ‘বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ’ এবং ‘ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন’—এর মতো ঘটনা ঘটেছে।
ভূখণ্ড নিয়ে ফিফার অবস্থান
ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্মকর্তাদের মূল অভিযোগ ছিল, পশ্চিম তীরের দখলকৃত ভূখণ্ডের ফুটবল দলগুলোকে নিজেদের জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দিয়ে ফিফার বিধি লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল। তবে ফিফা এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো শক্ত পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে:
"পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো অনির্ধারিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি অত্যন্ত জটিল বিষয়। তাই এই মুহূর্তে ফিফার কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।"
ইনফান্তিনোর ‘শান্তি’ দর্শন
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বরাবরই বলে আসছেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান করা ফিফার কাজ নয়। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ফুটবল ও বিশ্বকাপের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কেবল সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠাই তাঁদের লক্ষ্য।
শর্তসাপেক্ষ সংস্কার
১৮ মাসব্যাপী চলা এই তদন্তের রায়ে ফিফা আরও জানিয়েছে, জরিমানার অর্থের এক-তৃতীয়াংশ বৈষম্যবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যয় করতে হবে। এই পরিকল্পনাটি অবশ্যই ফিফা কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে এবং পুরো এক মৌসুম জুড়ে স্টেডিয়াম ও সরকারি মাধ্যমে বর্ণবাদবিরোধী প্রচারণায় জোর দিতে হবে।
ফিফার বিচারকদের মতে, ফুটবল একটি বৃহত্তর মানবিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয় এবং এটি শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকা উচিত। তবে সদস্যপদ স্থগিত না হওয়ায় ফিলিস্তিনি ফুটবল মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।