—ছবি সংগৃহিত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় আমদানিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি ঋণ নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে না নামিয়েই জ্বালানি আমদানি স্বাভাবিক রাখাই এখন সরকারের প্রধান কৌশল।
ঋণ সহায়তার উৎস
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, জ্বালানি আমদানির অর্থায়নে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) থেকে ২১০ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফসি থেকে ৫০ কোটি ডলারের ঋণ ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়ে আছে।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে আগামী জুলাইয়ে প্রাপ্য ১৩০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা জুনের মধ্যেই ছাড় করার অনুরোধ জানাবে সরকার। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংকের কাছেও বাড়তি সহায়তার আবেদন জানানো হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও তেলের বাজার
সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে গত ১৮ মার্চ ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগ এখন বিকল্প উৎসের সন্ধানে।
সরকারের ‘ত্রিমুখী’ নীতি
উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "আমরা এখন ত্রিমুখী নীতি নিয়ে এগোচ্ছি। প্রথমত, আমদানির উৎস বহুবিধ করা। দ্বিতীয়ত, আমদানির জন্য রিজার্ভে চাপ না দিয়ে ঋণ নেওয়া এবং তৃতীয়ত, আপাতত অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম না বাড়ানো।"
মজুত ও আমদানির বর্তমান অবস্থা
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে ১৮টি তেলের জাহাজ আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৭টি খালাস হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও ৫টি আসার কথা থাকলেও বাকি জাহাজগুলোর সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই সংকট কাটাতে সরাসরি সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন এবং কাজাখস্তান থেকে ২ লাখ টন ডিজেল আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সরকারি তথ্যমতে, বাংলাদেশে বছরে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে এলএনজি আমদানিতেই গত বছর খরচ হয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকার স্বল্প মেয়াদে অর্থায়ন নিয়ে কোনো সমস্যা দেখছে না।