—ছবি সংগৃহিত
মার্চ মানেই তপ্ত দুপুর আর বিকেলের হঠাৎ কালবৈশাখী। আকাশ কালো করে ধেয়ে আসা ঝোড়ো হাওয়া আর কয়েক পশলা বৃষ্টির পর রোদেলা আকাশ—এটাই চেনা রূপ। কিন্তু এবারের মার্চ যেন একটু ভিন্ন। ঝোড়ো হাওয়ার সেই দাপট নেই, অথচ আকাশ ভেঙে নামছে অঝোর ধারার বৃষ্টি। রাজধানীর আকাশ দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছে, এ যেন ঋতু ভুলে ভুল করে আসা শ্রাবণের ধারা।
দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও বদলে যাওয়া আচরণ
গত বুধবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়েছিল এই ভিন্নধর্মী বৃষ্টি। সাধারণত কালবৈশাখীর বৃষ্টি কিছুক্ষণ পরেই থেমে যায়, কিন্তু সেদিন রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলেছে বৃষ্টিপাত। আজ শুক্রবারও দুপুর থেকে রাজধানীর আকাশ মেঘলা, সঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এই পরিস্থিতির মূলে রয়েছে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল ‘বৃষ্টিবলয়’।
হাজার কিলোমিটারের সেই ‘রেখা’
ভারতের এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত পশ্চিমা লঘুচাপ ভূমধ্যসাগর থেকে তৈরি হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে অগ্রসর হয়। কিন্তু এবার তা কোনো বাঁক না নিয়ে একটি সরলরেখার মতো আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, এই সুদীর্ঘ উপমহাদেশীয় বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবেই বাংলাদেশেও বৃষ্টির দাপট বেড়েছে।
কেন এই ভিন্নতা?
আবহাওয়াবিদদের মতে, ডিসেম্বরের শীতকাল থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত এই পশ্চিমা লঘুচাপ সক্রিয় থাকার কথা থাকলেও এবার শীতে তা ছিল প্রায় অনুপস্থিত। এখন প্রাক-মৌসুমি বায়ুর এই সময়ে এসে পশ্চিমা লঘুচাপের এমন সক্রিয়তা বেশ অস্বাভাবিক।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, "সাধারণত এ সময়ে পশ্চিমা ঝঞ্ঝা উত্তর দিকে সরে যাওয়ার কথা, কিন্তু এবার তা এখনো দক্ষিণে অবস্থান করছে এবং বেশ শক্তিশালী। আরব সাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এই বলয়কে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে, যার অগ্রভাগ এখন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাচ্ছে।"
কালবৈশাখী বনাম পশ্চিমা লঘুচাপ
গত কয়েকদিনের এই বৃষ্টিতে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, কালবৈশাখীতে বাতাসের গতি অনেক বেশি থাকে। বর্তমান এই বৃষ্টি মূলত পশ্চিমা লঘুচাপের ফল, যেখানে বাতাসের চেয়ে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বেশি।
পূর্বাভাস কী বলছে?
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে আগামী রোববার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুপ্রবাহের এই ভিন্নতা প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দকে কিছুটা এলোমেলো করে দিচ্ছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।