—ছবি মুক্ত প্রভাত
গুরুদাসপুরে সাবেক পৌর মেয়র মশিউর রহমান বাবলু ও মেয়র প্রার্থী দুলাল সরকারের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারের রসুন হাটে ওই ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন গুরুদাসপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল আজিজ। গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উভয়পক্ষের রাজনৈতিক অফিস, শিশু পার্ক ও ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্তের দাবি করেছে দুই পক্ষ। এ ঘটনায় বিএনপির দুইপক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ না দিলেও আহত পুলিশ সদস্য বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে রাতেই মামলা দায়ের করেছেন। সাবেক মেয়র মশিউর রহমান বাবলু গুরুদাসপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দুলাল সরকার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তারা দুজনেই মেয়র প্রার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁচকৈড় বাজারের একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সামনেই দেশীয় অস্ত্র এবং কাঠের বাটাম নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এ সময় ইটের আঘাতে আহত হন গুরুদাসপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল আজিজ। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘন্টাখানেকের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মেয়র প্রার্থী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকার বলেন, ঘটনার রাতে প্রথমে চাঁচকৈড় খলিফাপাড়ায় ওষুধের দোকান ভাঙচুর করেছেন মশিউর রহমান বাবলুর সমর্থকেরা। এ সময় ওই এলাকার লোকজন দলমত নির্বিশেষে প্রতিরোধ করে। অথচ ওই ঘটনাকে কেন্দ্র রসুন হাটে অবস্থিত তার রাজনৈতিক কার্যালয় এবং তার অনুসারিদের কয়েকটি দোকান ও বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে তারেক রহমানের ছবি সংবলিত কয়েকটি ব্যনার। তিনি কোনো অশান্তি চান না বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি।
একই ধরণের অভিযোগ করেন মশিউর রহমান বাবলুও। তিনি বলেন, চাঁচকৈড় বাজারে তার ‘চলনবিল ক্লিনিক’, রড-সিমেন্টের দোকান এবং আনন্দ নগর শিশু পার্কে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন দুলাল সরকারের লোকজন। কয়েকটি দোকানের সাটার হাসুয়া দিয়ে কোপানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে এএসআই আবদুল আজিজ আহত হন। এ ঘটনায় বিএনপির দুইপক্ষের কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে পুলিশ বাদি হয়ে রাতেই অজ্ঞাত নামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।