—ছবি সংগৃহিত
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বুধবার এই হামলার পর শোধনাগারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদ সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলসহ পবিত্র জেরুজালেম এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজার পরপরই হাইফায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ শোধনাগারটির ওপর পড়লে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত বছর ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময়ও এই হাইফা শোধনাগারটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
পাল্টাপাল্টি হামলার নেপথ্যে
এই হামলার সূত্রপাত হয় গত বুধবার ভোরে, যখন ইসরায়েল ইরানের বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র 'সাউথ পার্স'-এর একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায়। এই গ্যাসক্ষেত্রটির একটি অংশ কাতারের মালিকানাধীন।
সাউথ পার্স-এ ইসরায়েলি হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কাতারের বিখ্যাত 'রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্স'-এর কিছু অংশেও আগুন লেগেছে বলে জানা গেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আঞ্চলিক সংকটের আশঙ্কা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি ক্ষেত্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস সরবরাহকারী কেন্দ্রগুলোতে হামলা হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স ও আল-জাজিরা