—ছবি সংগৃহীত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতেও দেশের পর্যটন খাতে কাটছে না স্থবিরতা। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটক আসায় যেমন ধস নেমেছে, তেমনি নানা জটিলতায় বাংলাদেশিদের বিদেশ গমনের আগ্রহেও ভাটা পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, উড়োজাহাজের টিকিটের চড়া দাম এবং ভিসা পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতায় এবারের ঈদে পর্যটনের মূল ভরসা হয়ে উঠেছে দেশের ভেতরের গন্তব্যগুলো।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, বিদেশি পর্যটক না এলে এই খাত দীর্ঘমেয়াদে এগোবে না।
বিদেশি পর্যটক কেন আসছে না?
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) ও প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, গত দেড় বছর ধরে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান হামলা, ২০২০-এর অতিমারি এবং ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২৪-এর নির্বাচন ও জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব তৌফিক রহমান বলেন, “জাপান ছাড়া অন্য দেশগুলো এখনো ভ্রমণসতর্কতা তোলেনি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সরকার অগ্রাধিকার না দিলে এই খাত এগোবে না।”
বিদেশ ভ্রমণে যত বাধা
বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এখন পদে পদে বাধা। উড়োজাহাজের টিকিটের দাম আকাশচুম্বী। ঈদে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার তিন ঘণ্টার ফ্লাইটের টিকিট এখন ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভিসা দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় পর্যটকরা বিপাকে পড়েছেন। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনামের মতো জনপ্রিয় দেশগুলোতেও ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
ঢাকার পর্যটক ফারজানা নীলা বলেন, “বেড়ানোর খরচ দিন দিন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাতায়াতকারী ফ্লাইটের দাম বেড়েছে। তাই এবার আর বিদেশের পরিকল্পনা করা যায়নি।”
দেশের পর্যটনকেন্দ্রে ভিড়ের অপেক্ষা
বিদেশে যেতে না পেরে পর্যটকরা এবার দেশের ভেতরেই ভিড় জমাচ্ছেন। এবারের ঈদে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির সুযোগ নিতে চান অনেকে। আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট।
কক্সবাজার: কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ইতিমধ্যে থ্রি স্টার ও ফাইভ স্টার হোটেলগুলোর ৮০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। ঈদে ৫ থেকে ৭ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম: রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির হোটেলগুলোর ৮০ শতাংশই বুকড। সাজেক ভ্যালির উদ্দেশ্যে যাওয়া গাড়িগুলোও আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে পাহাড়ের কিছু রিসোর্টে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
সিলেট ও সুন্দরবন: চায়ের দেশ সিলেট এবং সুন্দরবনের নৌ-ভ্রমণের প্যাকেজগুলোতেও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, “পর্যটনের জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, যা এখন অনুপস্থিত। যুদ্ধের কারণে গন্তব্য কমেছে, মানুষের মনে আতঙ্ক আছে। তবে দেশের ভেতর পর্যটন এলাকায় ভালো ভিড় হবে।”
বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় দেশের পর্যটন খাত স্থানীয় পর্যটকদের ওপর ভর করে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও, বিদেশি পর্যটক ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।