—ছবি সংগৃহীত
রিয়াদ কাতারের পর এবার ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের পক্ষ থেকে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়নি রিয়াদ। আজ বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
রাজধানী রিয়াদে আঞ্চলিক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘চাপের মুখে নতি স্বীকার নয়’
প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, ইরান ক্রমাগত হামলার মাধ্যমে তার ‘প্রতিবেশীদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা’ করছে। তবে এই কৌশল সফল হবে না বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, “সৌদি আরব এ ধরনের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না; বরং উল্টো এ চাপ তাদের (ইরান) ওপরই ফিরে আসবে।”
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে, প্রয়োজন মনে করলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে।”
আঞ্চলিক উত্তজনা ও নেপথ্য কারণ
সম্প্রতি কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল যে, তাদের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে তারা এই অঞ্চলের অন্তত চারটি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত করবে।
সৌদি আরবের এই হুমকি মূলত সেই ধারাবাহিক উত্তজনাকেই ইঙ্গিত করে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন। এবার সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক পরাশক্তির এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ববাজারে প্রভাবের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্যমতে, সৌদি আরব ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ওপেকের (OPEC) দুই প্রভাবশালী সদস্যের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।