—ছবি সংগৃহীত
কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি স্থাপনায় পুনরায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এই হামলায় স্থাপনাগুলোতে ‘বড় ধরনের আগুন’ লাগার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার এনার্জি।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফানে এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
কাতার এনার্জির বক্তব্য ও ক্ষয়ক্ষতি
রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি কাতার এনার্জি জানিয়েছে, এবারের হামলায় তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘পার্ল জিটিএল’ (গ্যাস-টু-লিকুইডস) স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ভোররাতের দিকে ইরান থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফান লক্ষ্য করে ছোড়া হয়।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
এই হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক দীর্ঘ পোস্টে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যদি আবারও কাতারে হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের প্রধান গ্যাসক্ষেত্র ‘দক্ষিণ পার্স’ এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে যা তারা কখনো কল্পনাও করেনি।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ইসরায়েল রাগের বশে দক্ষিণ পার্স ক্ষেত্রে যে সামান্য হামলা চালিয়েছিল, তার জবাবে কাতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইরানের এই হামলা ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাতারের সুরক্ষায় প্রয়োজনে এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে তিনি এক মুহূর্তও দ্বিধা করবেন না।
নেপথ্যে ইরানের হুঁশিয়ারি
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই কাতার তাদের নির্দিষ্ট কিছু স্থাপনা খালি করেছিল। কারণ ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল যে, তাদের গ্যাসক্ষেত্র লক্ষ্য করে চালানো হামলার জবাবে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অঞ্চলের অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তারা পাল্টা আঘাত হানবে। রাস লাফান সেই তালিকার শীর্ষে ছিল।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পার্ল জিটিএল-এর মতো স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির ফলে বিশ্ববাজারে এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। রাস লাফান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি হাব হওয়ায় এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে, যার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।