—ছবি সংগৃহীত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ২৫৫ রান কিংবা টুর্নামেন্টে তিনবার আড়াই শ পার হওয়া স্কোর দেখে অনেকেই রসিকতা করেছিলেন—টি-টোয়েন্টিতে রানবন্যা হলেও মিরপুরের ওয়ানডেতে কি আড়াই শ হবে? তবে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান সিরিজের চিত্রনাট্য ছিল ভিন্ন। দীর্ঘদিনের ‘মন্থর ও টার্নিং’ উইকেটের তকমা ঝেড়ে ফেলে মিরপুর এবার ধরা দিয়েছে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের সমান সুযোগ দেওয়া এক ‘স্পোর্টিং’ উইকেটে।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন জানিয়েছেন, এটি কোনো সাময়িক পরিবর্তন নয়। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই ঘরের মাঠে এখন থেকে স্পোর্টিং উইকেট তৈরির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।
কেন এই ভোলবদল?
ঘরের মাঠে সাধারণত স্পিন-সহায়ক মন্থর উইকেটে খেলে অভ্যস্ত বাংলাদেশ। এতে দেশের মাটিতে সাফল্য এলেও আইসিসির বড় ইভেন্টগুলোতে গিয়ে খাবি খেতে হয় ব্যাটারদের। কারণ, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোতে উইকেট হয় রানপ্রসবী। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই পাকিস্তান সিরিজে সাহসী সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি।
নাজমূল আবেদীন বলেন, ‘চ্যালেঞ্জটা যদি না নিতে চাই, সাহস দেখাতে না পারি—তাহলে আমাদের খেলাটা পরের ধাপে যাবে না। যতই স্কিল থাকুক, সাহস না থাকলে উন্নতি হবে না। ভবিষ্যতে মিরপুরে আর আগের সেই মন্থর উইকেট দেখা যাবে না।’
পেসারদের দাপট ও ব্যাটারদের স্বস্তি
নতুন উইকেটের সুফল হাতেনাতে পেয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানের ৩০ উইকেটের ১৯টিই নিয়েছেন পেসাররা। আবার ব্যাটিংয়েও দেখা গেছে নান্দনিকতা। শেষ ওয়ানডেতে ১০০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান। একই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছেন পাকিস্তানের সালমান আগাও।
বিসিবি জানিয়েছে, শুধু মিরপুর নয়, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিসিএল ওয়ানডেতেও স্পোর্টিং উইকেটে খেলানো হয়েছে ক্রিকেটারদের। এমনকি মিরপুর একাডেমি ও ইনডোরের অনুশীলনের উইকেটেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। নারী ও বয়সভিত্তিক দলগুলোকেও একই ধরনের উইকেটে অভ্যস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের।
“স্পোর্টিং উইকেটেই আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হবে। বিশেষ করে যখন আইসিসির ইভেন্টে যাব, এ ধরনের উইকেটেই খেলতে হবে।”
— নাজমূল আবেদীন, প্রধান, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ, বিসিবি
মিরাজের অধিনায়কত্বে স্বস্তি
গত বছর টানা চার ওয়ানডে সিরিজ হেরে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রশ্ন উঠেছিল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্ব নিয়ে। ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও বিসিবির কথায় ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে।
নাজমূল আবেদীন মিরাজের ওপর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ‘ওর সক্ষমতায় আমরা খুশি। আশা করব ও অধিনায়ক এবং খেলোয়াড় হিসেবে ভালো পারফর্ম করতে থাকবে।’ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা থাকলে মিরাজের ওপরই দীর্ঘমেয়াদে ভরসা রাখতে চায় বিসিবি।