—ছবি সংগৃহীত
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে তেহরান। এবারের হামলায় সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। আজ বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গুচ্ছ বোমা বা ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে লক্ষ্যবস্তুর বিস্তীর্ণ এলাকায় একযোগে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব হয়, যা জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে। তবে এই হামলায় ইসরায়েলের ভেতরে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তেল আবিবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
এদিকে এক উদ্বেগজনক খবরে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরান সরকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের খুব কাছাকাছি পড়লেও এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আইএইএ-র উদ্বেগ
পারমাণবিক স্থাপনার কাছে এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে। যেকোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ এই অঞ্চলে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই সংঘাত এখন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। লারিজানি হত্যার পর ইরানের এই ‘ক্লাস্টার মিসাইল’ হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।