—ছবি সংগৃহিত
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার নিভৃত পল্লিতে জন্ম নেওয়া এক শিশু থেকে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠার কারিগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মদিন আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে শেখ লুৎফর রহমান এবং সায়েরা খাতুনের ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের এই স্থপতি।
সংগ্রামের শৈশব ও রাজনৈতিক হাতেখড়ি
কৈশোর থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন এই নেতার প্রতিবাদী চেতনার প্রকাশ ঘটেছিল গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়ার সময়ই। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণে সেই বয়সেই তাঁকে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করতে হয়। পরবর্তীতে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের মতো প্রখ্যাত নেতাদের সান্নিধ্যে এসে ছাত্র রাজনীতিতে অপরিহার্য হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৪৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া এবং ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
অধিকার আদায়ের দীর্ঘ পথ
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় বঙ্গবন্ধুকে বাঙালির একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তাঁর কালজয়ী ভাষণ স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে পুরো জাতিকে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর যখন চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়, তখনো তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন।
কারাজীবন ও ত্যাগ
বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো ব্যয় করেছেন কারাপ্রকোষ্ঠে। মোট ৪ হাজার ৬৮২ দিন তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের মধ্যে প্রায় ১৩ বছরই তাঁকে বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে। এমনকি জীবনের আটটি জন্মদিন কেটেছে নিঃসঙ্গ কারাগারে।
সাদামাটা জীবন ও মহাপ্রয়াণ
ব্যক্তিগত জীবনে বঙ্গবন্ধু জন্মদিনের আড়ম্বর পছন্দ করতেন না। অত্যন্ত সাদামাটাভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে দিনটি কাটাতেন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর সেই স্বপ্নযাত্রা থমকে যায়।
আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কৃতজ্ঞ জাতি তাদের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করছে। টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় শিশু দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী।