—ছবি সংগৃহিত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে অংশ নেবে না ফ্রান্স। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সচল করার কোনো সামরিক অভিযানে প্যারিস সম্পৃক্ত হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। আজ মঙ্গলবার ফ্রান্সের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তবে ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর সেখানে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর দেশ।
‘আমরা যুদ্ধের পক্ষ নই’
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত নিয়ে আলোচনার শুরুতে ম্যাক্রোঁ বলেন, "আমরা এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ নই। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার কোনো অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না।" তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি ওয়াশিংটনের প্রত্যাশাকে নাকচ করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যখন বড় ধরনের হামলা বা বোমা বর্ষণ বন্ধ হবে, তখন অন্য দেশগুলোর সঙ্গে মিলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা (এসকর্ট) নিশ্চিত করতে ফ্রান্স প্রস্তুত থাকবে।
ট্রাম্পের প্রত্যাশা ও ম্যাক্রোঁর অবস্থান
এর আগে গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি সচল করার বিষয়ে তিনি ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। ট্রাম্পের মতে, এ বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান ‘১০-এর মধ্যে ৮’ পাওয়ার মতো এবং ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেবে।
তবে আজকের বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ফরাসি কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ছাড়াই একটি স্বাধীন নিরাপত্তা জোট গঠনের চেষ্টা করছে ফ্রান্স।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের বড় একটি অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে বর্তমানে এই জলপথটির নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফ্রান্স মনে করছে, সামরিক অভিযানের চেয়ে কূটনৈতিক ও স্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।