—ছবি সংগৃহিত
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই শীর্ষ সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তা তাঁর পদত্যাগপত্রে দাবি করেছেন, ইরানের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি’ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক চিঠিতে ৪৫ বছর বয়সী জো কেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাঁর ‘সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের’ আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি লবির ওপর দায়
পদত্যাগপত্রে জো কেন্ট অভিযোগ তুলেছেন যে, ‘ইসরায়েল এবং সে দেশের প্রভাবশালী মার্কিন লবিস্টদের চাপে’ ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধের পথে হাঁটছে। তিনি সরাসরি দাবি করেন, উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী মার্কিন সাংবাদিকেরা পদ্ধতিগতভাবে ‘ভুল তথ্য’ ছড়িয়েছেন। এই অপপ্রচার ট্রাম্পকে তাঁর ঘোষিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (সবার আগে আমেরিকা) নীতি থেকে বিচ্যুত হতে বাধ্য করেছে বলে কেন্ট মনে করেন।
চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসন্ন হুমকি—প্রতারণার মাধ্যমে আপনাকে এই বিশ্বাস করানোর জন্য ওই মিথ্যা তথ্যগুলো বারবার প্রচার করা হয়েছিল। এটি একটি মিথ্যা ছিল।’
ব্যক্তিগত ক্ষত ও অভিজ্ঞতা
জো কেন্ট মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একজন অভিজ্ঞ সদস্য। যুদ্ধের ভয়াবহতা তাঁর ব্যক্তিজীবনেও গভীর দাগ কেটেছে। ২০১৯ সালে সিরিয়ায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় তাঁর স্ত্রী ও মার্কিন নৌবাহিনীর ক্রিপ্টোলজিক টেকনিশিয়ান শ্যানন কেন্ট নিহত হয়েছিলেন। সেই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপটে তিনি বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়া মেলেনি হোয়াইট হাউসের
কেন্টের এই নাটকীয় পদত্যাগের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া মেলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার এই সরাসরি অভিযোগ ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর যে দাবি কেন্ট করেছেন, তা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।