—ছবি সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চরম সংঘাতময় পরিস্থিতি। ইরান সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের অন্তত ১২টি দেশ থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইরাক ও ওমানে সতর্কতা
বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। শনিবার জারিকৃত এক জরুরি সতর্কবার্তায় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান সংশ্লিষ্ট মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের কারণে সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, ওমানে অবস্থানরত জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিস্থিতি
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলার পর এখনো আগুন জ্বলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান থেকে ছোড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রোববার ভোরে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হলে তা আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তেহরানের ‘শত্রুদের’ জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি করতে আগ্রহী নন এবং দেশটির খারগ দ্বীপে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।