—ছবি সংগৃহিত
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় দেশে তেল বিক্রির ওপর যে সাময়িক কঠোরতা বা ‘রেশনিং’ আরোপ করা হয়েছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামীকাল রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের মতো স্বাভাবিক নিয়মে জ্বালানি তেল বিক্রি করা যাবে।
শনিবার সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বর্তমানে তিনি জাপানে ‘ইন্দো প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি’ সম্মেলনে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই ফোনে গণমাধ্যমকে সিদ্ধান্তের কথা জানান।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
গত ৬ মার্চ থেকে অস্বাভাবিক বিক্রি ও আতঙ্ক ঠেকাতে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় এবং সরবরাহ সংকটের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি এবং পরিবহন মালিকদের চাপের মুখে সরকার এই রেশনিং তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
মন্ত্রী বলেন, "আগাম সতর্কতা থেকেই রেশনিং করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে রোববার থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হচ্ছে।"
মজুতের বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক:
ডিজেল: বর্তমানে মজুত আছে প্রায় ২ লাখ টন, সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে আরও ৬০ হাজার টন সংরক্ষিত আছে। দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ১২ হাজার টন।
অকটেন ও পেট্রল: দুটিরই ১৬ হাজার টন করে মজুত আছে। প্রতিদিন দেশীয় উৎস থেকে আরও ৬০০-৭০০ টন তেল যুক্ত হচ্ছে।
আমদানি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
চলতি মার্চ মাসে ১৮টি তেলবাহী জাহাজ আসার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ৬টি ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। ২৭ মার্চের মধ্যে আরও ৬টি জাহাজ পৌঁছানোর কথা। এছাড়া জুন পর্যন্ত ডিজেল ও অকটেন কেনার চুক্তি থাকলেও মে মাসের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছ থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পেট্রল ও অকটেনের একটি বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়, তাই মূল দুশ্চিন্তা ছিল ডিজেল নিয়ে। তবে আমদানির পাইপলাইন সচল থাকায় এবং নতুন জাহাজ আসায় মার্চ মাসে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
সতর্কতা
সরকার সরবরাহ বাড়ালেও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অহেতুক মজুত করলে বাজারে কৃত্রিম চাপের সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জ্বালানি বিভাগ।