—ছবি সংগৃহিত
ইফতারের আগেই বিজয়োল্লাস! মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ যা হলো, তাকে এক কথায় ‘পাকিস্তান বধ’ বললেও কম বলা হবে। নাহিদ রানার আগুনের গোলার পর তানজিদ হাসানের ব্যাটে চড়ে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২০৯ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়টি ওয়ানডে ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ওভার হাতে রেখে জয়ের নতুন রেকর্ড।
নাহিদ রানার ‘আগুনের গোলা’
টস জিতে বোলিংয়ে নেমে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যখন প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট পেলেন না, তখন হয়তো কেউ ভাবেননি পরের কয়েক মিনিট কী হতে যাচ্ছে। ১০ম ওভারে বল হাতে নিয়েই দৃশ্যপট বদলে দেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। নিজের প্রথম স্পেলে ৫ ওভার বল করে প্রতি ওভারেই একটি করে উইকেট তুলে নেন তিনি।
মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আগাদের মতো ব্যাটাররা নাহিদের শর্ট লেংথ আর গতির সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। ১৮তম ওভার পর্যন্ত চলা এই ‘নাহিদ-শো’তেই পাকিস্তানের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধসিয়ে দেন নাহিদ। রিভিউ নিলে হয়তো তাঁর নামের পাশে ৬টি উইকেটও থাকতে পারত। বাকি কাজটুকু সারেন অধিনায়ক মিরাজ (৩ উইকেট), তাসকিন ও মোস্তাফিজ। পাকিস্তান থামে মাত্র ১১৪ রানে।
ওয়ানডে যখন টি-টোয়েন্টি
১১৫ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান দ্রুত বিদায় নিলেও বিচলিত হয়নি বাংলাদেশ। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে তাণ্ডব শুরু করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৫০ ওভারের ম্যাচকে তারা রীতিমতো টি-টোয়েন্টি বানিয়ে ছাড়েন।
ইফতারের আগেই খেলা শেষ করার এক তাড়না যেন ছিল দুই ব্যাটারের মধ্যে। দ্বিতীয় উইকেটে ১০ ওভারে ৮২ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন তারা। নাজমুল ২৭ রান করে আউট হলেও তানজিদ অপরাজিত থাকেন ৪২ বলে ৬৭ রানের এক টর্নেডো ইনিংসে, যেখানে ছিল ৫টি ছক্কা ও ৭টি চারের মার।
ইফতারের মুহূর্তে জয় নিশ্চিত
জয়ের জন্য যখন ১ রান বাকি, তখন মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওয়াইড বলটি বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে গেলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। ঠিক ইফতারের আগমুহূর্তে লিটন দাস ও তানজিদ হাসান বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়েন। ৮ উইকেটের এই বড় জয়টি পাকিস্তানের বিপক্ষে উইকেটের ব্যবধানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ১১৪/১০ (৩০.৪ ওভার); নাহিদ রানা ৫/?, মিরাজ ৩/২৯।
বাংলাদেশ: ১১৮/২ (১৫.১ ওভার); তানজিদ ৬৭*, নাজমুল ২৭।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী (২০৯ বল হাতে রেখে)।