—ছবি সংগৃহিত
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে 'কঠোর আঘাত' হানা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নজরদারি
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন দেশের জাহাজগুলোকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী শক্তি প্রয়োগ করে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই সামরিক অভিযান সফলভাবে এগিয়ে যাবে।
বিজয়ের দাবি ও দীর্ঘসূত্রিতার দোলাচল
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা দ্বিমুখী অবস্থান লক্ষ করা গেছে। একদিকে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করে দাবি করেছেন যে, ইরানের সামরিক ক্ষমতা ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে না পারার একটি প্রচ্ছন্ন চাপও তাঁর কথায় ফুটে উঠেছে।
এর আগে বুধবার কেন্টাকির হেবরনে এক জনসভায় ট্রাম্প বলেছিলেন:
"আমরা জিতেছি। কিন্তু কাজ পুরোপুরি শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধ আরও কিছুদিন চালিয়ে যেতে হবে।"
বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতার শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সরাসরি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক হস্তক্ষেপের ঘোষণা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, মার্কিন প্রশাসনের এই হার্ডলাইন অবস্থান মূলত ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা অথবা তাদের আঞ্চলিক প্রভাব সম্পূর্ণ খর্ব করার একটি চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। তবে আন্তর্জাতিক মহল এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানাচ্ছে।