—ছবি সংগৃহিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অধ্যাদেশগুলো পেশ করেন।
সংসদীয় কার্যক্রমের মূল হাইলাইটস:
নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অধিবেশন পরিচালনা: স্পিকারশূন্য অবস্থায় অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সভাপতি নিযুক্ত করেন। পরে নবনির্বাচিত স্পিকার শপথ গ্রহণ শেষে দায়িত্ব বুঝে নেন।
উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশসমূহ
উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন হলো:
| বিভাগ | উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশসমূহ |
| গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট |
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি তহবিল অধ্যাদেশ (২০২৫), সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ (২০২৬)।
|
| স্থানীয় সরকার |
জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা আইন সংশোধন।
|
| নিরাপত্তা ও ভিআইপি |
বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী সংশোধন এবং জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা রহিতকরণ।
|
| আর্থিক প্রতিষ্ঠান |
বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট), গ্রামীণ ব্যাংক, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক ও হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স।
|
| বিচার ও নির্বাচন | ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস সংশোধন, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন এলাকা সীমানা নির্ধারণ। |
কেন এই অধ্যাদেশ উত্থাপন জরুরি?
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ বহাল না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি যে অধ্যাদেশগুলো জারি করেন, সংসদ গঠনের পর প্রথম অধিবেশনেই সেগুলো উত্থাপন করতে হয়। অন্যথায় এগুলোর কার্যকারিতা হারানোর ঝুঁকি থাকে। এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ এখন সংসদীয় কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়ায় যাবে।