—ছবি সংগৃহীত
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি মোবাইল ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
সরাসরি পৌঁছে যাবে আর্থিক সহায়তা
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই উপকারভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
যাচাই-বাছাই ও স্বচ্ছতা
প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়:
প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ: ৫১,৮০৫টি পরিবার।
মাঠ পর্যায়ে সঠিক তথ্য: ৪৭,৭৭৭টি পরিবার।
চূড়ান্ত তালিকা: ৩৭,৫৬৭টি পরিবার।
একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণকারী (ডাবল ডিপিং), সরকারি চাকুরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দিয়ে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
নারী ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব
এই প্রকল্পের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
"সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ১৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য দরিদ্র পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।