—ছবি সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের দশম দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে ইরান কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার বিবরণ:
কাতার: রাজধানী দোহার আকাশে সোমবার ভোরের দিকে অন্তত ১২টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
বাহরাইন: রাজধানী মানামার সিতরা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় ৩২ জন নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে। সিতরা এলাকার একটি তেল শোধনাগারের কাছে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
সৌদি আরব: শেবাহ তেলক্ষেত্র এবং রিয়াদের উত্তরে বেশ কিছু ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এসব ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও, সৌদি আরব কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে—ইরান হামলা বন্ধ না করলে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের পূর্ণ অনুমতি দেবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ফুজাইরাহ এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও প্রাণহানি:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ১,২০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও শত শত মানুষ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতার নির্দেশে ইরান এখন তাদের কৌশলগত আক্রমণাত্মক অবস্থান আরও জোরদার করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি:
এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। এছাড়া, চলমান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আকাশসীমা ও বাণিজ্য রুটগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল এই যুদ্ধ বন্ধ এবং উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানালেও, আপাতত সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।