—ছবি সংগৃহীত
আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের। ভারতের ব্যাটারদের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ম্যাচটি একপেশে হয়ে পড়লেও, ক্রিকেট বিশ্লেষক সংস্থা 'উইজডেন' মনে করছে, কিউইদের হারের পেছনে তাদের ট্যাকটিক্যাল বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বড় ধরনের ঘাটতি ছিল।
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত তাদের হারের পথ প্রশস্ত করেছে বলে মনে করছে উইজডেন। তাদের বিশ্লেষণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কোল ম্যাকনকিকে না খেলানো: সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ী মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন অফ স্পিনার কোল ম্যাকনকি। অথচ ফাইনালে তাঁকে একাদশের বাইরে রাখা ছিল এক বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত। ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা অফ স্পিনের বিপক্ষে কিছুটা দুর্বলতা দেখালেও, ম্যাকনকির অনুপস্থিতিতে কিউই অধিনায়ক গ্লেন ফিলিপসকে দিয়ে বোলিং করিয়ে সুবিধা করতে পারেননি। ফলে অভিষেক শুরু থেকেই ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠেন।
২. বোলার নির্বাচনে ভুল ও ডাফির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা: ম্যাচের শুরুতেই ম্যাট হেনরিকে সরিয়ে জ্যাকব ডাফিকে বোলিংয়ে আনাটা হিতে বিপরীত হয়। ডাফির ওভারে ১৫ রান নিয়ে ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এছাড়াও ডেথ ওভারে লকি ফার্গুসন বা ডাফির পরিবর্তে জিমি নিশামের হাতে শেষ ওভার তুলে দেওয়াটা ভুল ছিল বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। নিশামের ওই ওভারে ২৪ রান আসায় ভারতের সংগ্রহ ২৫৫-এ পৌঁছায়, যা রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ডের জন্য পাহাড়সম চাপের কারণ হয়।
৩. স্লোয়ার বল ও ওয়াইডের ছড়াছড়ি: ইনিংসের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা অতিরিক্ত ওয়াইড বল করার প্রবণতা দেখিয়েছেন। পাওয়ারপ্লের মধ্যে আটটি ওয়াইড বল করে তারা ভারতকে বিনা পরিশ্রমে বাড়তি রান উপহার দিয়েছেন। এছাড়া স্লোয়ার বলের ব্যবহার ছিল অপরিকল্পিত, যা সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা সহজেই কাজে লাগিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন।
৪. ভারতের পরিকল্পনা ও গৌতম গম্ভীরের বিচক্ষণতা: নিউজিল্যান্ড যেখানে নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে অনমনীয় ছিল, ভারত সেখানে পরিস্থিতির প্রয়োজনে কৌশল পরিবর্তন করেছে। ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীরের নির্দেশে জাসপ্রিত বুমরাহকে ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে নিয়ে আসা ছিল একটি মাস্টারস্ট্রোক। যদিও বুমরাহ ওই ওভারে উইকেট পাননি, তবে তিনি রান আটকে রেখে নিউজিল্যান্ডের ওপর যে চাপ তৈরি করেছিলেন, তাতেই তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে।
এছাড়া ব্যাটিং লাইনআপে অদল-বদল না করে নিউজিল্যান্ড যে রক্ষণাত্মক মনোভাব দেখিয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত তাদের হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারার খেসারত দিতে হলো কিউইদের।
ভারত তাদের কৌশলগত পরিকল্পনার যথাযথ প্রয়োগ ঘটিয়েই বিশ্বকাপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের ভুল সিদ্ধান্তের তালিকাটিই মূলত তাদের শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।