—ছবি সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আজ শনিবার অষ্টম দিনে প্রবেশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে আজ রাতে ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
স্কট বেসেন্টের ভয়ঙ্কর বার্তা
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক ভয়াবহ বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, আজ রাতে ইরানের ওপর ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি’ পরিচালিত হতে যাচ্ছে। বেসেন্ট দাবি করেন, এই হামলায় মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং তৈরির কারখানাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে যাতে দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান: দিশেহারা তেহরান
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ইরানে অন্তত ৩ হাজার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়:
শীর্ষ নেতৃত্ব: প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।
নৌ-শক্তি: ইরানের অন্তত ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা: মার্কিন কমান্ডার জেনারেল ড্যান কেইনের মতে, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ক্ষমতা ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা মঙ্গলবার আরও ২৩ শতাংশ কমেছে।
অপারেশন এপিক ফিউরি: লক্ষ্য এখন আইআরজিসি
সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য এখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে তেহরান বর্তমানে চরম দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশেষ করে আজ রাতের সম্ভাব্য ‘মহা-বোমাবর্ষণ’ কর্মসূচি ইরানের অবশিষ্ট সামরিক কাঠামোকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।