—ছবি সংগৃহিত
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে তৃতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধ। শনিবার ভোরে ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক ও ভয়াবহ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশ নিহত হয়েছেন। এই হামলার মাধ্যমে ইরানকে একটি দুর্বল ও বিভক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আলোচনার প্রহসন ও যুদ্ধের সূচনা
ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে যখন পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে জেনেভা ও ওমানে আলোচনা চলছিল, তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পথ বেছে নেন। এই হামলাকে মার্কো রুবিও ‘প্রতিরোধমূলক’ হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে এটি ইরানকে বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক আঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনা
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং নেতানিয়াহুর বহুকাঙ্ক্ষিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, নীল নদ থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ তাদের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা ইরানকে প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে।
ভারতের কৌশলগত অবস্থান
এই সংকটে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লেখক ও গবেষক আজাদ এসার মতে, বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে ভারতের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সামরিক উৎপাদন, প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং ইসরায়েলি অর্থনীতিতে ৫০ হাজার ভারতীয় শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে ভারত এখন ইসরায়েলের পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে প্রধান অংশীদারে পরিণত হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট
এই যুদ্ধের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে:
হরমুজ প্রণালি: ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।
জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি: কাতার গ্যাস রপ্তানি বন্ধ রাখায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
শরণার্থী সংকট: ইরান যদি ভেঙে পড়ে, তবে অঞ্চলজুড়ে নতুন সংঘাত ও ইউরোপমুখী লাখ লাখ শরণার্থীর ঢেউ সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের ভবিষ্যৎ ও প্রভাব
বর্তমানে ইরানের সামনে দুটি পথ: হয় দেশটির শাসনকাঠামো ভেঙে পড়বে, অথবা তারা যুদ্ধটিকে সমঝোতার টেবিলে নিয়ে আসবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নতুন করে আঁকার একটি ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। এছাড়া, ইরান টিকে থাকলে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলতে পারে।