—ছবি সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা সামরিক অভিযান আজ বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দিনে প্রবেশ করেছে। যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মার্কিন মদদপুষ্ট কুর্দি যোদ্ধাদের অংশগ্রহণ।
গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ ও জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, হাজার হাজার কুর্দি যোদ্ধা ইতোমধ্যেই ইরাক-ইরান সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানের অভ্যন্তরে স্থল অভিযান শুরু করেছে।
সীমান্তে কুর্দিদের অগ্রযাত্রা
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে পরিচালিত ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই এই যোদ্ধারা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কুর্দিদের এই অগ্রযাত্রার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং ইরানি বাহিনীকে বিভিন্ন প্রান্তে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া, যাতে তারা ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলার মোকাবিলায় পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করতে না পারে।
ওয়াশিংটনের রহস্যময় অবস্থান
কুর্দি যোদ্ধাদের এই অভিযানের পেছনে সরাসরি মার্কিন মদদের অভিযোগ উঠলেও হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন থেকে মিশ্র বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, "মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে কোনো বিদ্রোহীকে সরাসরি সশস্ত্র করছে না।" তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যোগ করেন যে, "মার্কিন সরকারের অন্যান্য অংশ (যেমন গোয়েন্দা সংস্থা) এই ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারে।"
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ট্রাম্প প্রশাসনের কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর ইরাকে মার্কিন ঘাঁটি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কুর্দি নেতাদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, "ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার খবরটি সঠিক নয়।"
ট্রাম্পের হুঙ্কার: লক্ষ্য পরবর্তী নেতৃত্বও
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর বার্তায় ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারকে নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগের নেতৃত্বের মতো নতুন কাউকেও হত্যার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। ট্রাম্পের এই হুঙ্কার ইরানজুড়ে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি:
স্থল যুদ্ধ: কুর্দি যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশের পর ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিমান হামলা: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগত ঘাঁটি ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা: যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে।