—ছবি সংগৃহিত
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ অভিযানের চতুর্থ দিনে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর ওপর ভয়াবহ আঘাত হেনেছে মার্কিন নৌবাহিনী। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো সুনির্দিষ্ট হামলায় ইরানের অন্তত ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক নৌযান ধ্বংস বা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে।
'অপারেশন এপিক ফিউরি': সমুদ্রসীমায় মার্কিন আধিপত্য
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের নৌ-সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু করে দিতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দেওয়া তথ্যমতে, ধ্বংস হওয়া নৌযানগুলোর মধ্যে ইরানের গর্ব হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু অত্যাধুনিক রণতরিও রয়েছে।
পেন্টাগনের দাবি করা তালিকার উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যবস্তুসমূহ:
IRIS Makran: ইরানের বিশাল ফরোয়ার্ড বেস জাহাজ, যা বন্দর আব্বাসের কাছে হামলার শিকার হয়।
IRIS Shahid Bagheri: ইরানের সর্বাধুনিক ড্রোন ও হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার।
IRIS Fateh: ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কার্যকর সাবমেরিন।
এছাড়া বেশ কিছু Jamaran-class ফ্রিগেট এবং দ্রুতগামী ছোট অ্যাটাক বোট (Fast Attack Crafts) ধ্বংস করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম 'টরপেডো' হামলা
এই অভিযানের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারত মহাসাগরে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে টরপেডো ছুড়ে ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena-কে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো শত্রু জাহাজকে টরপেডো দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটল। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সফলতাকে 'কোয়াইট ডেথ' বা নিভৃত মৃত্যু হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী প্রভাব
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন দাবি করেছেন, এই সাড়াসি অভিযানের ফলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার নৌ-সক্ষমতা প্রায় ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগর বা ওমান উপসাগরে ইরানের কোনো বড় যুদ্ধজাহাজ কার্যকর অবস্থায় নেই।
ইরানের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
নৌবাহিনীতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের খবর আসলেও ইরান দমে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের মূল প্রতিরোধ শক্তি এখনো অক্ষুণ্ণ এবং তারা গেরিলা নৌ-কৌশল ব্যবহার করে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে (বাহরাইন ও কাতার) ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যা প্রমাণ করে যে আকাশপথে তাদের হামলার ক্ষমতা এখনো নিঃশেষ হয়নি।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা
ইরানের নৌবহর ধ্বংসের খবরের পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বাড়ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় অনেক বিমা কোম্পানি এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।