—ছবি সংগৃহিত
এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে শক্তিশালী এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ-বি’র এই ম্যাচে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে হারের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতা।
প্রথমার্ধের নাটকীয়তা ও দুই গোল
ম্যাচের শুরু থেকেই ফেভারিট চীনের বিপক্ষে রক্ষণভাগ আগলে রেখে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ম্যাচের ২৪ মিনিটে চীনের ওয়াং শুয়াং জালে বল পাঠালেও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির কল্যাণে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। দীর্ঘক্ষণ লড়াই চালিয়ে গেলেও প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ রক্ষণ।
৪৪ মিনিট: ডি-বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার জোরালো শটে চীনের হয়ে প্রথম গোলটি করেন তারকা ফরোয়ার্ড ওয়াং শুয়াং।
৪৫+১ মিনিট: প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জ্যাং রুই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন (২-০)। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাইল আক্তার প্রথম শটটি ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হওয়ায় গোলটি হজম করতে হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো
বিরতির পর বাংলাদেশ আরও সাহসী ফুটবল উপহার দেয়। ঋতুপর্ণা চাকমা ও মারিয়া মাণ্ডারা চীনের রক্ষণে কয়েকবার ভীতি ছড়ালেও গোলমুখ খুলতে পারেননি। বিশেষ করে গোলরক্ষক মাইল আক্তার পুরো ম্যাচে বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে চীনের গোল ব্যবধান বাড়তে দেননি। দ্বিতীয়ার্ধে চীন কোনো গোল করতে না পারায় ২-০ ব্যবধানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
লড়াইয়ের পরিসংখ্যান ও অর্জন
ম্যাচ শেষে হারলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফুটবল ভক্তরা। র্যাঙ্কিংয়ে ১৭ নম্বর দলের বিপক্ষে ১১২ নম্বর দল হিসেবে বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স এশিয়ান ফুটবলে নতুন এক বার্তা দিয়েছে।
"অভিষেক হিসেবে মেয়েরা দারুণ খেলেছে। চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধান আমাদের জন্য মোটেও হতাশাজনক নয়, বরং এটি সামনের ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস যোগাবে।" — ক্রীড়া বিশ্লেষক