—ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনার পথ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা এবং সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রেক্ষাপটে তেহরান এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
তেহরানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, "শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার টেবিল এখন অর্থহীন।" ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় বলেন, যখন একদিকে সামরিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞা চলছে, তখন অন্য পাশে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া একটি 'প্রতারণা'। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান এখন আর কোনো মৌখিক আশ্বাসে বিশ্বাস করে না।
নেপথ্যে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় হামলার পর দুই দেশের মধ্যকার ন্যূনতম কূটনৈতিক বিশ্বাসটুকুও বিলীন হয়ে গেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা এখন আলোচনার বদলে 'কঠোর প্রতিশোধের' পথ বেছে নিয়েছে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও মধ্যস্থতাকারীদের ব্যর্থতা
কাতার ও ওমান দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করে আসলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে, যা কোনো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য নয়।
বৈশ্বিক প্রভাব
ইরানের এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং লোহিত সাগরসহ পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।