তিন মাসেই ইউটার্ন? পুলিশের ইউনিফর্ম বদল নিয়ে ফের বিতর্ক
মাত্র তিন মাস আগে চালু হওয়া পুলিশের নতুন লৌহ রঙের ইউনিফর্ম নিয়ে আবারও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যেই আপত্তি তুলেছেন মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্য থেকে শুরু করে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার সংগঠনগুলো। সূত্র বলছে, নতুন সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় নিচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সময় জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট প্রধানদের মতামত নেওয়া হলেও কেউই নতুন রঙের পক্ষে ছিলেন না। তাদের অভিযোগ—এই পোশাক দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, দ্রুত গরম ধরে এবং অন্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে মিল থাকায় জনচেনায় সমস্যা তৈরি করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার পর বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে পোশাক বদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বাস্তবে সেটি উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন অনেক কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, ২০০৩-০৪ সালে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত খাকি পোশাকই ছিল সবচেয়ে কার্যকর ও পরিচিত। নতুন পোশাক নির্ধারণে মাঠপর্যায়ের মতামত ও বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়েছে।
এদিকে পোশাকের কাপড় কেনায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে ১৪১ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয় নোমান গ্রুপকে, যার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলমান—এ তথ্য সামনে আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের সদস্যরা বলছেন, নতুন ইউনিফর্ম দূর থেকে স্পষ্ট নয়, অনেক ক্ষেত্রে সিকিউরিটি গার্ডের পোশাকের সঙ্গে গুলিয়ে যাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশদের অভিযোগ, মোটা কাপড়ের কারণে তীব্র গরমে দায়িত্ব পালন কষ্টকর হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে বর্তমান আইজিপি জানিয়েছেন, শুধু পোশাক নয়—পুলিশের মনোভাব ও আচরণেও পরিবর্তন জরুরি। এ জন্য আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও “ভিজিবল” ইউনিফর্ম নির্ধারণে নতুন কমিটি গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাক বদলে নয়—প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, লজিস্টিক সাপোর্ট ও জবাবদিহিতাই পুলিশের আস্থা ফেরানোর মূল চাবিকাঠি। তিন মাসের ব্যবধানে আবার ইউনিফর্ম বদলের আলোচনা সেই প্রশ্নই সামনে আনছে—এই সিদ্ধান্ত কি আদৌ প্রয়োজনীয় ছিল?