—ছবি সংগৃহীত
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে এই হামলার শিকার হন তিনি। খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইরানজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর পর পারমাণবিক শক্তিধর এই দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। ইরানের সংবিধান এবং আল-জাজিরা ও বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব ও উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব: তিন সদস্যের বিশেষ পরিষদ
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ক্ষমতার কোনো শূন্যতা রাখা যাবে না। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিন সদস্যের একটি 'সাময়িক নেতৃত্ব পরিষদ' দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই পরিষদে রয়েছেন:
ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।
বিচার বিভাগের প্রধান (চিফ জাস্টিস)।
গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা।
এই পরিষদই বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এছাড়া খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে বিশেষ কিছু নির্বাহী কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে।
উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া
স্থায়ীভাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগের দায়িত্ব ইরানের 'অ্যাসেম্বলি অব লিডারশিপ এক্সপার্টস'-এর ওপর ন্যস্ত। সংবিধান অনুযায়ী, এই পরিষদকে যত দ্রুত সম্ভব যোগ্য একজন উত্তরসূরি খুঁজে বের করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার কারণে এই মুহূর্তে পরিষদের সদস্যদের একত্রিত হওয়া এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রণক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে খামেনির নিহতের খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নির্মূল এবং শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই তাদের মূল লক্ষ্য। হামলায় খামেনি ছাড়াও ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
পাল্টা হামলা ও বর্তমান পরিস্থিতি
খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
উল্লেখ্য যে, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর ইরান আজ এক চরম নেতৃত্ব সংকটের মুখোমুখি।