দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩৬ জন ছাত্রী নিহত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিউজ ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত থেকে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মিনাব শহরের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে মুহূর্তের মধ্যে তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা। উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন।
রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ
মিনাব ছাড়াও ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। রাজধানী তেহরানের বেশ কিছু এলাকা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা গেছে। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের নিকটবর্তী স্থাপনাগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা
হামলা শুরুর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরু হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এবং তিনি ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পরবর্তী ইসলামী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য ইরানি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এই বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।