—ছবি সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিশাল এক কোরাল মাছের ঝাঁক। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ১০০টি লাল কোরাল মাছ নিয়ে বুধবার ভোরে টেকনাফ পৌরসভার কাইয়ুখ খালী ঘাটে ভিড়েছে একটি ফিশিং ট্রলার। বিরল এই বিশাল প্রাপ্তিতে ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
১২০ মণ মাছের দাম ৩১ লাখ টাকা
ট্রলার মালিক মোহাম্মদ মিজান ও হারুন জানান, ১৭ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে গত শনিবার তাঁদের ট্রলারটি গভীর সাগরে গিয়েছিল। মঙ্গলবার বিকেলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে জাল তোলার সময় বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল ধরা পড়ে।
মাছগুলোর মোট ওজন প্রায় ১২০ মণ। পাইকারি বাজারে মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা দরে এই চালানের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি মাছের ওজন গড়ে ৫ থেকে ৬ কেজি, যার প্রতি কেজির দাম পড়ছে প্রায় ৬৫০ টাকা।
সংঘাতের আশঙ্কার পর বড় সাফল্য
ট্রলারের মাঝি রহমত উল্লাহ জানান, সীমান্তে আরাকান আর্মির সংঘাতের কারণে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রায় এক সপ্তাহ সাগরে যাওয়া বন্ধ ছিল। বিরতি শেষে সাগরে ফিরেই এমন বড় প্রাপ্তি তাঁদের আগের সব লোকসান পুষিয়ে দিয়েছে। জেলেদের নিজেদের ভাগের জন্য ১০০টি মাছ রেখে বাকি ১০০০টি মাছ বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।
ঘাটের ব্যবসায়ী রশিদ আহমেদ জানান, আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে সামুদ্রিক মাছের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। এই লাল কোরালের একটি বড় অংশ কক্সবাজার ও রাজধানী ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
লাল কোরালের পুষ্টিগুণ ও গুরুত্ব
টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা জানান, লাল কোরাল অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। বৈজ্ঞানিক নাম Lates calcarifer যুক্ত এই মাছ মূলত ভেটকি প্রজাতিভুক্ত।
"এই মাছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর। বিরল এই মাছের আধিক্য বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদের সমৃদ্ধিকেই নির্দেশ করছে।"
সংশ্লিষ্টদের মতে, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত মৌসুমে সেন্ট মার্টিন সংলগ্ন সাগরে লাল কোরাল ঝাঁক বেঁধে চলাচল করে। এবারের এই বিশাল চালান স্থানীয় জেলেদের জন্য বড় আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।