—ছবি সংগৃহীত
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন ও সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এই রদবদল বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ইতিমত্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনে বড় মাপের পুনর্বিন্যাস
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই জনপ্রশাসনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার পৃথক প্রজ্ঞাপনে চুক্তিতে থাকা ৯ জন সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে অন্তত ১২টি সচিব ও সমপর্যায়ের পদ শূন্য রয়েছে। মাঠ প্রশাসনেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে; জেলা প্রশাসক (ডিসি) পর্যায়েও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আভাস পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও এনবিআরে নতুন নেতৃত্ব
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বাহিনীর ওপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন আইজিপি: আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকিরকে পদোন্নতি দিয়ে নতুন আইজিপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আবদুর রকিব।
শোনা যাচ্ছে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ পুলিশের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুতই পরিবর্তন আসতে পারে।
শিক্ষা প্রশাসনে পরিবর্তনের হাওয়া
উচ্চশিক্ষা প্রশাসনেও বড় ধরনের অস্থিরতা ও পরিবর্তনের সুর পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান ইতিমধ্যে অব্যাহতির আবেদন জমা দিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রায় অর্ধশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের অনেকগুলোতেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) এবং এনসিটিবি (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বহীন থাকায় সেখানেও দ্রুত নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে।
বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান বলেন, "নতুন সরকার আসার পর প্রশাসন গুছিয়ে নেওয়া স্বাভাবিক। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কেবল 'দলীয় পরিচয়' নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতাই নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি হয়। কেউ যেন অহেতুক বঞ্চিত না হন।"
উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও 'মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ' গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে পদোন্নতি ও পদায়নের একমাত্র মানদণ্ড হবে দক্ষতা ও সততা।