—ছবি সংগৃহিত
নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচির সিংহভাগ সম্পন্ন করা এবং দ্রুততম সময়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
খাল খনন: জিয়াউর রহমানের দর্শনে নতুন বিপ্লব
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে এই প্রকল্প শুরু হচ্ছে।
লক্ষ্য: ১৮০ দিনের মধ্যে প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শেষ করা।
সমন্বয়: স্থানীয় সরকার, পানি সম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই কর্মসূচির রূপরেখা ও শুরুর তারিখ নির্ধারণ করবে।
উদ্দেশ্য: কৃষিকাজ ও পানি নিষ্কাশনে সাধারণ মানুষকে সরাসরি সুবিধা প্রদান।
'ফ্যামিলি কার্ড' ও বিশেষ কমিটি গঠন
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুস্থ ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভাপতি: অর্থমন্ত্রী।
সদস্য: মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সরকারের উচ্চপদস্থ সচিবগণ।
পাইলট প্রকল্প: প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় এই কার্ড চালু করা হবে।
সময়সীমা: আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই কার্ড বিতরণ শুরু করা যায়।
বার্ষিক ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রতিবছর দেশে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শুরু: আগামী মে মাস থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে।
পরিকল্পনা: এ বছর লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও পরবর্তী বছরগুলোতে ঘাটতি পূরণ করে পাঁচ কোটি গাছ লাগানো নিশ্চিত করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্যসমূহ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটি সুবিধাভোগী নির্বাচনের আধুনিক পদ্ধতি এবং ডিজিটাল এমআইএস (MIS) ডাটাবেজ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে প্রকৃত দুস্থদের চিহ্নিত করা হবে, যা বিশেষ করে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সহায়ক হবে।