—ছবি সংগৃহীত
দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, জনকল্যাণ এবং পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন।
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় থেকে একযোগে এই উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা বর্তমান সরকারের কঠোর পরিশ্রমী ও সংস্কারমুখী অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা প্রধানদের সাথে বৈঠক
সকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে দেশের তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্ম-পরিকল্পনা বিষয়ক বৈঠক।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
সেনাবাহিনী প্রধান: জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
বিমান বাহিনী প্রধান: এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন
নৌবাহিনী প্রধান: ভাইস অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সাক্ষাতে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এরপরই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (DGFI) মহাপরিচালকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও খাদ্য নিরাপত্তা
নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রশাসনিক সভায় মনোনিবেশ করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় তার সভাপতিত্বে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার আইনি ও কারিগরি কাঠামো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন।
‘সবুজ বিপ্লব’ ও নদী খনন মেগা প্রকল্প
বিকেলেও প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক সূচিতে রয়েছে পরিবেশ ও কৃষি সংক্রান্ত বড় চমক। দুপুর ২টায় তিনি ‘সবুজ বিপ্লব’ ও পরিবেশ রক্ষায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন কর্মসূচি নিয়ে আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বসবেন।
সরকার সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, দখল হয়ে যাওয়া জলাশয় উদ্ধার এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থা উন্নত করতে এই কর্মসূচিটি নতুন সরকারের একটি 'মেগা প্রকল্প' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জনকল্যাণে সরকারের দৃঢ় অবস্থান
ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই নিরবিচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশি-বিদেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রমী ভূমিকা পালন করে জনগণের আস্থা অর্জনই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।