—ছবি মুক্ত প্রভাত
১৯৯২ সাল। ভৌগলিকভাবে ধারাবারিষা ইউনিয়নটি ছিল একে বারেই সুবিধা বঞ্চিত অজপাড়া। সে সময়ের রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে ২৫ বছর বয়সি শীর্ণকা চেহারার এক যুবকের। জেল থেকে প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৪ আসনে (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) ধানের শীষ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই রাজনীতিকের নাম আবদুল আজিজ।
তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ধারাবারিষা গ্রামের মৃত তাজেম প্রামাণিকের ছেলে। এই নির্বাচনে তিনি বিএনপির দল মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তিনি দুই উপজেলায় মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৫১ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতের আবদুল হাকিমকে ৩৫ হাজার ৬৫৮ ভোটে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
আবদুল আজিজের পেছনের ইতিহাস বলছে— গোড়া থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতি করেছেন। ১৯৯২ সালে তিনি প্রথম ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচতি হন। সে সময় তিনি রাজনৈতিক কারণে জেল হাজতে ছিলেন। পরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জেল থেকে ছাড়া পান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা তৃতীয় মেয়াদে ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। শেষ মেয়াদের মাঝ পথে দায়িত্ব ছেড়ে তিনি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেন। সে বছর আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক সূত্র বলছে, ২০১৪ সালের শেষের দিকে এসে উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছেড়ে সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে আইনি জটিলতায় সেসময় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল হয়। এর পর আওয়ামী লীগে শাষনামলে তিনি বিএনপির হয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। হামলার শিকার হয়েছেন। হয়েছেন একাধিক মামলার আসামি। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন তাকে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। এখন আবদুল আজিজকে মন্ত্রীত্ব দেওয়ার দাবি তার নেতাকর্মীদের।
এদিকে নাটোর-৪ আসনে বিএনপির দলীয় রাজনীতিতেও আবদুল আজিজ ছিলেন শীর্ষে। দীর্ঘদিন ধরে আবদুল আজিজ গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। সবশেষ তিনি নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বেরত ছিলেন।
গুরুদাসপুর পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মশিউর রহমান বাবলু বলেন, ‘স্থানীয় বিএনপির জন্য আবদুল আজিজ নিবেদিত প্রাণ। তিনি ইউপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে নানামুখী উন্নয়ন এবং অর্থনীতি সমৃদ্ধ করেছেন। আমরা আশাকরি সংসদ সদস্য হিসেবেও নাটোর-৪ আসনের মানুষের উন্নয়ন সমৃদ্ধি নিরলস ভূমিকা রাখবেন তিনি।’
নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, ‘১৯৯২ সালে ধারাবাষিরা ইউনিয়নের মানুষ একটি চারাগাছ রোপন করেছিলেন। গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের মানুষ সেই চারাগাছটিকে পরিচর্যা করে বটবৃক্ষে রূপান্তরিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন। আমি এই ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবো না।’
নির্বাচিত হওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে আবদুল আজিজ বলেন, ‘বিশাল বড় পাথর মাথায় চেপেছে। জানিনা এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবো কি না। তবে আপনারা যেভাবে সহযোগীতা করে নির্বাচনী বৈতরণী পারি দিয়েছেন, একইভাবে সহযোগীতা অব্যহত রাখলে কঠিন দায়িত্বটা আমার কাছে সহজ হয়ে যাবে।’ একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের তিনি বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।’