—ছবি সংগৃহীত
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে না হতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে আগুন লেগেছে। ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবু থেকে শুরু করে বেগুন, শসা, মুরগি ও মাছ—সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বর্তমানে বাজারে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ভালো মানের এক হালি (৪টি) লেবু কিনতে যে টাকা লাগছে, তা দিয়ে অনায়াসেই এক ডজন ফার্মের ডিম কেনা সম্ভব।
লেবুর বাজারে হাহাকার
গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল ও কারওয়ান বাজারে ভালো মানের বড় আকারের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। অর্থাৎ একটি লেবুর দামই পড়ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। অথচ এক ডজন বাদামি ডিমের দাম এখন ১১০ টাকা। মাঝারি মানের লেবুও ৬০ টাকার নিচে মিলছে না। বিক্রেতাদের দাবি, মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কম, কিন্তু রমজানে চাহিদা কয়েক গুণ বাড়ায় এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।
সবজি ও ইফতার সামগ্রী
ইফতারিতে জনপ্রিয় 'বেগুনি' বানানোর প্রধান উপকরণ বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দামও চড়া:
পেঁয়াজ: ৫৫-৬০ টাকা (কেজিতে ১০-১৫ টাকা বৃদ্ধি)
কাঁচা মরিচ: ১৪০-১৬০ টাকা (কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি)
টমেটো ও গাজর: আগের চেয়ে কেজিতে ১০ টাকা বেশি।
আমিষের বাজারে অস্বস্তি
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আমিষের প্রধান উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকার ঘর ছাড়িয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ১৬০-১৭০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ৩২০-৩৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মাছের বাজারেও একই চিত্র; তেলাপিয়া, পাঙাশ ও রুই মাছের দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ফলের দাম আকাশচুম্বী
রোজায় বিদেশি ফলের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
মাল্টা: ৩১০-৩৪০ টাকা (কেজি)
আপেল: ৩৩০-৪০০ টাকা (কেজি)
কলা: ডজনে ৩০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
বাজার করতে আসা পোশাককর্মী শামসুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রোজার সময় দাম কমার কথা থাকলেও এখানে উল্টো সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এখন ইফতারি জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।"
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রোজার প্রথম সপ্তাহ পার হলে চাহিদ কিছুটা কমলে দাম আবার স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বর্তমানে বাজারে নজরদারি না বাড়ালে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।