—ছবি সংগৃহিত
দীর্ঘ ১৮ মাসের দায়িত্ব শেষে এক অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ প্রটোকলের মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে যাচ্ছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন নির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই সরকারের আনুষ্ঠানিক পথচলা। তবে এই বিদায়লগ্নে উপদেষ্টাদের জন্য থাকছে এক বিশেষ সাংবিধানিক ও প্রতীকী আয়োজন।
পতাকাবাহী গাড়িতে শেষ যাত্রা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার শপথের দিন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তাঁদের জন্য নির্ধারিত জাতীয় পতাকাবাহী সরকারি গাড়িতে করেই অনুষ্ঠানস্থলে (জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা) যাবেন। যেহেতু শপথ হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁরা স্বপদেই বহাল থাকেন, তাই রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী পতাকা ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার তাঁদের থাকবে।
ফেরার পথে সাধারণ নাগরিক
শপথ অনুষ্ঠানের পর যখন নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তখন অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টারা আর পদে থাকবেন না। ফলে, অনুষ্ঠান শেষে ওই একই সরকারি গাড়ি তাঁদের বাসায় পৌঁছে দিলেও গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না। এই প্রতীকী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তাঁরা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক থেকে পুনরায় সাধারণ নাগরিক জীবনে ফিরে যাবেন।
শেষ বৈঠক ও উপদেষ্টাদের মূল্যায়ন
আজ রোববার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রেস সচিব বলেন, “উপদেষ্টারা সবাই দেশের গর্বিত সন্তান। তাঁরা দেশেই আছেন এবং ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও শ্রম দিয়ে কাজ করে যাবেন।” কোনো কোনো উপদেষ্টার দেশ ছাড়ার গুঞ্জন উঠলেও প্রেস সচিব তা নাকচ করে দিয়ে জানান, তাঁরা সবাই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
শপথের সময় ও স্থান
তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (মঙ্গলবার)।
স্থান: জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা।
সময়: বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
পটভূমি: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নিয়েছিল এই অন্তর্বর্তী সরকার। দীর্ঘ দেড় বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে এক ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যায়।