—ছবি মুক্ত প্রভাত
নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোনালী ব্যাংক থেকে ইসলামী ব্যাংকে পাঠানো প্রায় চার কোটি টাকার একটি সন্দেহজনক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট
মঙ্গলবার বিকেলে শহরের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (দুলু) জানান, ঢাকা থেকে সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার একটি সন্দেহভাজন হিসাবে প্রায় চার কোটি টাকা পাঠানো হয়। ভোটের মাত্র এক দিন আগে এত বড় অংকের টাকা লেনদেনকে 'ভোট কেনাবেচার চেষ্টা' হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, "সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আমরা আশঙ্কা করছি এই টাকা নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তারে ব্যবহৃত হতে পারত।"
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
লেনদেনটি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার এভিপি রেজাউল করিম জানান, ভোটের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকবে বিধায় এটিএম বুথগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে এই অর্থের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। চার কোটি টাকার লেনদেন তাদের ব্যাংকের জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংক নাটোর প্রধান শাখার এজিএম উজ্জল কুমার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক লেনদেনটি স্থগিত করেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
নাটোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, একজন প্রার্থীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।